১৯ দখলদারের কারসাজিতে বিপাকে ৭ গ্রামের মানুষ

হাটবিলা রূপদিয়া খাল দখল

মহিউদ্দিন সানি, রূপদিয়া: কয়েকটি গ্রামের পানি নদীতে বয়ে যাওয়ার একমাত্র হাটবিলা রূপদিয়া খালটি দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। প্রভাবশালীরা ইচ্ছেমত অস্থায়ী দোকানপাট ও স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণ করে খাল দখল করে চলেছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ জনগণ।

নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াহিদুজ্জামান জানান, মোট ১৯ জন অবৈধ দখলদার এই খালটির ওপর স্থায়ী পাকা কালভার্ট ও অস্থায়ী দোকানপাট নির্মাণ করেছে। দখলদাররা প্রভাবশালী তবে এবার তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধ খাল দখলদাররা হলেন, রূপদিয়া গ্রামের আকাম গাজির ছেলে মকলেচুর রহমান, নুরো ও শরিফুল গাজী, একই গ্রামের মজিদ গাজির ছেলে আব্দুর রহমান, জোহর আলীর ছেলে নুর ইসলাম, সন্তোষের ছেলে রিপন, ইবাহিম খানের ছেলে ইমরান খান, অনিলের ছেলে উত্তম, মৃত শাহাজান আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম, হাটবিলা গ্রামের আনছার আলী মোল্যার ছেলে রফিকুল ইসলাম, মথুরাপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে কাশেম, মুন্সেফপুর গ্রামের হাজারী দত্তের ছেলে কৃষ্ণ দত্ত, একই গ্রামের আতুলের ছেলে রাম্প্রাসাদ, জনৈক মফিজ, জামাল, নরেন্দ্রপুরের হারেজ মল্লিকের ছেলে আজাদ, একই গ্রামের মিঠু। এছাড়াও রূপদিয়া মসজিদ কমিটির একটি টয়লেটের হাউজ খালের জমিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে যশোর সদরের এসিল্যান্ড এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, এই খালের মালিক যশোর জেলা পরিষদ। অবৈধ দখলদার হলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরজমিনে দেখা গেছে, রূপদিয়া গ্রামের মকলেচুর রহমান নিজের ইচ্ছেমত খালের জমির মাটি কেটে নিজের জমিতে তুলেছেন। খালের সাত ফুট জমিতে ১০ ইঞ্চি ঢালাই ভিম ও ইটের গাঁথুনি দিয়ে উপরে ছাদ ঢালাই দিয়েছেন।

মকলেচুর রহমান জানান, ‘এই খালের পাশে আমার ১২ শতক জমি আছে। আমি এখানে মার্কেট বানাচ্ছি। ভূমি জরিপে যশোর-খুলনা মহাসড়ক ও আমার জমির মাঝে কোন খাল নেই। আমি মানুষের ভালোর জন্য ৭ ফুট চওড়া ড্রেনটি তৈরি করেছি। ড্রেনের ভেতরে ৫ ফুট নালা আছে। এতে আমার ৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। মহাসড়ক থেকে আমার মার্কেটে ঢোকার সুবিধার জন্য এই ড্রেনটি জব্দ করে তৈরি করছি।’

এলাকাবাসীর দাবি, এই খালটি অনেক বড় ছিলো। কেউ কেউ বলছেন খালটি ১৫ ফুট চওড়া ছিলো। কয়েকজন লোভী মানুষ কালক্রমে এখন খালটিকে নালায় পরিণত করছে। মূল খালের একটি বড় অংশ এখন এখন ময়লার ভাগাড়। খালের ওপর স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা করে চা-পানের দোকান, পোল্ট্রির দোকান, কাঠগোলা, হোটেল, লেদ ব্যবসা পরিচালনা করছেন অনেকেই। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

খাল দখলের সংবাদ পেয়ে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুধন্য দাস, ইউপি সদস্য আ. মালেক, মকবুল হোসেন, আ. রাজ্জাক এবং গোলাম মোস্তফা সেখানে যান।

৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন বলেন, অনেকেই এই খালটা অবৈধ দখল করে আছে। দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় ইচ্ছেমত খাল দখলের প্রতিযোগিতা করছে। এখন এই খাল দখলমুক্ত করতে যশোর জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ খুবই জরুরি।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবু সালাম আসাদ পারভেজ জানান, কালক্রমে অনেকেই অবৈধভাবে এই খালটি দখল করছে। মুন্সেফপুর, রূপদিয়া, জিরাট, হাটবিলা, শাঁখারিগাতি, নরেন্দ্রপুরসহ কয়েকটি গ্রামের পানি এই খাল দিয়ে বুড়ি ভৈরবে প্রবাহিত হয়। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই এসব অঞ্চলের কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আমরা এর আশু সমাধান আশা করি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে