২১ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস

২১ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস

রমজান আলী, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চ্যাংখালী-গোয়ালপাড়া সড়কের পাশে পতিত জমিতে ২১ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস অসহায় দরিদ্র ও ভূমিহীন নুর মোহাম্মদ-মমতাজ দম্পত্তির। দিনের বেলায় একটু স্বস্তি পেলেও রাতে ঝুপড়ি ঘরে সন্তান-সন্তুতি নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয় তাদের, কখন জানি ঘর ভেঙে পড়ে কিংবা ঝড়-বৃষ্টিতে উড়ে যায়। ঝুপড়ি ঘরের কারণে তাদের দু’ ছেলের বিয়ে দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। অসুস্থ নুর মোহাম্মদ বলেন, এক সময় উপজেলাব্যাপী আমার ভ্যানওয়ালা নুরু বলে ব্যাপক পরিচিতি ছিল। বাবা-মায়ের যে ভিটেমাটি পেয়েছিলাম তাও বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করি।

পরে ২০০০ সালেরও আগে থেকে সরকারি এই জমিতে বসবাস শুরু করি। আমি বর্তমানে মারাত্মক অসুস্থ, ভ্যানও চালাতে পারিনে, আবার ক্ষেতে-খামারে কাজ করতে পারিনে। পার্শ্ববর্তী মুরগী ফার্ম পাহারা দিয়ে যা পাই তা দিয়েই সংসার চলে আমার।

নুর মোহাম্মদের স্ত্রী মমতাজ বেগমকে জীর্ণ-শীর্ণ শরীর আর পরণে ছেড়া কাপড়ে দেখা যায়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করলেও কেউ আমাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। একদিকে আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনই রোগাক্রান্ত। অন্যদিকে আমাদের শিশু দু’ সন্তানের ভবিষ্যতের চিন্তা। তাদের এখনও পর্যন্ত মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে পারলাম না। লোকজনের কাছ থেকে বাঁশ চেয়ে টিন-পলিথিন দিয়ে ঝুপড়ি ঘরে থাকার কারণে বড় ছেলে সাইফুলের সাথে কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে চাচ্ছে না। ঝুপড়ি ঘরে আমরা রাতের বেলা নিরাপত্তাহীনতায় থাকি। বর্ষা মওসুমে সবচেয়ে বেশি বিপদে থাকি।

ঝড় ঝাপটা এলেই বুক কেঁপে ওঠে কখন জানি ঘর ভেঙে মাথায় পড়ে কিংবা ঝড়ে ঘর উড়ে যায়। বর্ষার দিনগুলো ভয়ে আর নির্ঘুম রাতে কাটে অধিকাংশ সময়। বর্ষার সময় ঘর দিয়ে পানি পড়ে। সে আমাদের বসে রাত কাটে।

ছোট ছেলে আশাফুল হক লেখাপড়া করে তার বইপত্রও পানিতে ভিজে নষ্ট হয়। বর্তমানে কনকনে শীতে জীবন কাহিল অবস্থা হয়ে যায়।

নুর মোহাম্মদ বলেন, সরকারের কোন সাহায্য আমাদের কপালে জোটে না। মানুষের কাছে শুনি সরকার নাকি গরিব মানুষকে ঘর ও চাল দেয়। কই আমরা তো কিছুই পেলাম না। আমাদের দুরবস্থা কি কারো চোখে পড়ে না।
নুর মোহাম্মদ-মমতাজ বেগম দম্পত্তির বর্তমানে কখনও খেয়ে, আবার কখনও না খেয়ে দিন কাটে।
সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসাবুল ইসলাম মিল্টন মোল্লা বলেন, আমি সবেমাত্র ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা পেলাম। তবে নুর মোহাম্মদ-মমতাজ বেগম দম্পত্তি অনেক দিন ধরে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন। সরকারি ঘর বরাদ্দ আসলেই আমি তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি সরকারি ঘর দেয়ার ব্যবস্থা করবো। ইতোমধ্যেই অন্যান্য সহযোগিতা তাদেরকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগদানের প্রতিটি ওয়ার্ডের মেম্বার-কাউন্সিলরদের ভূমিহীন, ঘরহীন পরিবারের তালিকা দিতে বলেছি। এ বছর ঘরের তালিকা হয়ে গেছে। নুর মোহাম্মদ-মমতাজ বেগম দম্পত্তি পরিবারের ব্যাপারটি আমি দেখব এবং তারা যাতে আগামীতে সরকারি ঘর বরাদ্দ পায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে