২১ বছর পর ১৬ জানুয়ারি ঝিকরগাছা পৌরসভার নির্বাচন (ভিডিও)

যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভা

ইলিয়াস উদ্দীন, নিজস্ব প্রতিবেদক : সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার মামলার অজুহাতে দীর্ঘ ২১ বছর পর যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলো। আর এই ঘোষণার শোনার সাথে সাথে পৌরবাসীর মাঝে আনন্দের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে যেন। তফসিল ঘোষণা অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর, বাছাই ২০ ডিসেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ২৭ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণ ১৬ জানুয়ারি।

পৌরসভা তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ৪ এপ্রিল উপজেলা সদরের ৯ দশমিক ৪৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ঝিকরগাছা পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। তখন নবগঠিত পৌরসভার প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালের ২ এপ্রিল ঝিকরগাছা পৌরসভায় একবারই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাই ওই নির্বাচন প্রথম এবং শেষ। সে নির্বাচনে মেয়র (তখন ছিল চেয়ারম্যান) নির্বাচিত হন বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল। ২০০৬ সালের প্রথম দিকে পৌরসভার সীমানা বাড়ানো হয়। এতে সদর ইউনিয়নের মল্লিকপুর, ফারাসাতপুর, পদ্মপুকুর পানিসারা ইউনিয়নের পুরন্দপুর, কাউরিয়া ও গদখালী ইউনিয়নের বারবাকপুর ও বামনআলী গ্রামের অংশবিশেষ পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

অভিযোগ আছে, এসব অঞ্চল বিএনপির ভোটার অধ্যুষিত হওয়ায় তারা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে একাজ করেছিলেন। কিন্তু এসব অঞ্চল প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত না হতে এলাকাবাসী নানা রকম প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। শেষমেষ কাউরিয়া গ্রামের শাহিনুর রহমান, বামনআলী গ্রামের শাহাদৎ হোসেন ও মল্লিকপুর গ্রামের সাইফুজ্জামান পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত না হতে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। আর এতেই আটকে যায় ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচন। ফলে ২০০৬ সালের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এরপর টানা ২১ বছর পার হলেও পৌরসভার আর কোন নির্বাচন হয়নি। তাই নাগরিক সেবা ও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে পৌরবাসীর।

পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত না হতে হাইকোর্টে রিট পিটিশনকারী কাউরিয়া গ্রামের শাহিনুর রহমান বলেন, অবিলম্বে পৌরসভার নির্বাচন চাই। ১৯ বছর আগে রিট করেছিলাম। আর কোন খোঁজখবর নেইনি। কোর্ট থেকেও কোনদিনও কোন কাগজপত্র পাইনি। তাছাড়া অপর রিটকারী বামনআলী গ্রামের শাহাদৎ হোসেন মারা গেছেন।
পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইনামুল হক জানান, ২১ বছর পৌরসভার নির্বাচন না হওয়ায় মেয়র ও কাউন্সিলরা জনগণের কাছে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা একেএম আমানুল কাদির টুললু জানান, তফসিল ঘোষণাটা ভালো খবর।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ জানান, পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় পৌরবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর হওয়ার ব্যাপারে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন বর্তমান মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল, আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, সাধারণ সম্পাদক মুসা মাহমুদ, আওয়ামী লীগের নেতা মোর্তজা ইসলাম বাবু, রফিকুল ইসলাম বাপ্পী,ইমরানুর রশীদ, আমানুল কাদির টুললু।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ, যুগ্ম আহবায়ক আশফাকুজ্জামান রনি, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে