৪ মাসে সোয়া ৮ কোটি টাকা আয় হলেও ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধা বাড়েনি

সালমান হাসান
সড়ক পথের মত রেলপথেও আমদানি পণ্য এনে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিপুল পরিমাণ আয় করলেও পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে রেলওয়ের থেকে নূন্যতম সহযোগিতা মিলছে না। ফলে পণ্য খালাস করতে অন্তহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্টেশনগুলোয় কোটি কোটি টাকার পণ্য আনলোড হলেও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়নি।

যশোর স্টেশনের লোডিং-আনলোডিং প্লাটফর্মের নির্মাণ কাজ দীর্ঘ দিনেও শেষ হয়নি। তাই নওয়াপড়া ও সিঙ্গিয়া স্টেশনে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস করছেন। কিন্তু সেখানেও মহাদুর্ভোগ। বিদ্যুত না থাকায় আলোর অভাবে সন্ধ্যার পর সেখানে পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। এদিকে স্টেশনটি থেকে জানানো হয়েছে প্রতিদিন ২০টি (১০ ওয়াগন) কন্টেইনার খালি করতে হবে। সেটি না করা গেলে কন্টেইনার প্রতি ৯০ টাকা চার্য দিতে হবে। কিন্তু অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার কারণে সেখানে প্রতিদিন ১০টির বেশি কন্টেইনারের পণ্য খালাস সম্ভব না। কারণ ইন্ড্রাসটিয়াল সোডা একটানা ধরে খালাস করতে পারেন না শ্রমিকরা। দীর্ঘক্ষন এই পণ্য বহন করলে হাতে জালাপোড়া করে। ফলে সীমাহিন কষ্ট ভোগ করছেন শ্রমিকার। স্টেশনটিতে বিশ্রামের জন্য কোন শেড নেই।

স্থলপথে পণ্যজটের কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে খালাস প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বেশির ভাগ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী রেলপথে পণ্য আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এমনকি রেলপথে পণ্য আনলে বিরাট অংকের ‘ডিটেনশন চার্য’ এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। যানজটের কারণে পণ্যবাহি গাড়ি আটকে থাকলে এই মাশুল গুনতে হয়। কিন্তু রেলপথে এই জটের ঝামেলা নেই। ফলে কম সময়ে আমদানি পণ্য দেশে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রেও রয়েছে আরেক সমস্যা। সেটি হলো কার্গো চালানের ছাড়পত্র।

আমদানি-রফতানিকারকরা জানান, বেশির ভাগ পণ্যবাহী রেল কার্গো বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় সন্ধ্যায়। ফলে সংশ্লিষ্ট অফিস বন্ধ থাকায় পরের দিন খালাস শুরু করতে হয়। কিন্ত ১২ ঘন্টা পেরোনার পর এক্ষেত্রেও ‘ডিটেনশন চার্য’ গুনতে হয়। এই সময়সীমা ২৪ ঘন্টা করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমনটি কর হলে এই ব্যয় এড়াতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ব্যবসায়ীরা বেনাপোলের দ্বিতীয় লাইনটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন। এটি চালু হলে ভারত থেকে আরো বহু পরিমাণ আমদানি পণ্য নিয়ে বেশি সংখ্যক মালবাগি ট্রেন এসে এখানে অবস্থান করতে পারবে।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ড্রাসটির ডিরেক্টর মতিয়ার রহমান জানান, পণ্য খালাসে বেধে দেয়া ৩ দিনের সময়সীমা বাড়িয়ে ৫দিন করতে হবে। বিদ্যমান ডিটেনশন চার্য কমাতে হবে। সেই সাথে যশোর স্টেশনের লোডিং-আনলোডিং প্লাটফর্মের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চারমাসে (জুলাই-অক্টোবর) ভারত থেকে ট্রেনে এক লাখ ২০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে। এ থেকে রেলওয়ের আয় হয়েছে প্রায় আট কোটি ২৬ লাখ টাকা। কিন্তু আমদানি পণ্য খালাসে নূন্যতম সুযোগ সুবিধা বাড়ায়নি রেলকর্তৃপক্ষ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে