Sunday, May 29, 2022

যশোরে করোনা বেড়েই চলেছে : রেড জোন ঘোষণা হলেও পরোয়া করছে না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে করোনা শনাক্তের হার লাফিয়ে বাড়ছে। গত ১২ জানুয়ারি যশোরকে ইয়েলো জোনের আওতায় রাখা হলেও, সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯ জানুয়ারি রেড জোনের আওতায় আনা হয়। মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। অধিকাংশ মানুষ মাস্ক পরে না। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই হাটবাজার ও গণজমায়েতপূর্ণ স্থানে অবাধে বিচরণ করছে। মূলত এ জন্যই বাড়ছে সংক্রমণ।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করে ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতার তেমন কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বলতে গেলে স্বাস্থ্যবিধি উধাও।

শনাক্তের হার ১০ থেকে ১৯ শতাংশ উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তবে যশোরে ২১ জানুয়ারি শনাক্তের হার ছিল ৩৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তার আগের দিন ছিল ৩৪ শতাংশ। অবশ্য, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ ও প্রয়োজন অনুসারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এরপরও অধিকাংশ মানুষের মুখে রাস্তাঘাটে মাস্ক দেখা যায়নি।

উচ্চ ঝুঁকির কারণে যশোরকে গত ১৯ জানুয়ারি রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যশোরের বেনাপোলে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল পোর্ট। এ ছাড়া যশোরে বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন এবং দেশের ১৮টি জেলায় চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসের বড় টার্মিনাল রয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এখানে ব্যাপক মানুষের সমাগম ঘটে। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন খুব দ্রুত ছড়ায়। এ জন্য মানুষজন বেশি সংক্রমিত হচ্ছে। আর যেহেতু শনাক্তের হার অনেক বেশি সেই কারণে যশোরকে উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকলেও যশোরের রাস্তাঘাটে বিশেষ করে রেলস্টেশন, শহরতলী বা গ্রামের হাটবাজারে মানুষের মাঝে তেমন স্বাস্থ্য সচেতনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা মাস্ক ব্যবহারে অধিকাংশ মানুষের মাঝে অনীহা দেখা গেছে।

যশোর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২১ জানুয়ারি যশোরে ৯৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ওই দিন আক্রান্তের হার ছিল ৩৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তার আগের দিন ২০ জানুয়ারি ছিল ৩৪ শতাংশ।
যশোর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক ডা. আলাউদ্দীন আল মামুন বলেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসের নতুন যেসব ধরন তৈরি হচ্ছে, এইগুলো মানুষকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা আগের ধরনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। দিন দিন সংক্রমণের হার বেড়েই চলেছে।এর কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়–প্রথমত, কেউ কেউ ধরেই নিয়েছেন, করোনা মহামারি চলে গেছে। দ্বিতীয়ত, গতবার যারা সংক্রমিত হননি তারা ধরে নিয়েছেন, করোনা থাকলেও বড় ধরনের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না। তৃতীয়ত, অনেকে ভাবছেন টিকা দেওয়া আছে, তাই আর করোনা সংক্রমণের ভয় নেই। চতুর্থত, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে না চলা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক গণজমায়েতে বিধিনিষেধ না থাকা, রাস্তাঘাট বাজার অফিস-আদালতে মাস্ক পরিধান না করা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে না চলা, অনেকে এখনও টিকা গ্রহণ করেননি, বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের সঠিকভাবে মনিটরিং না করা, বিদেশি শ্রমিক ও পণ্যবাহী মালামাল পরিবহনে সঠিক নজরদারি না থাকা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ন চলাসহ যশোর পার্শ্ববর্তী দেশ সংলগ্ন একটি জেলা হওয়াতে এখানে সংক্রমণের হার বেশি।

এ বিষয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, মূলত জন-অসচেতনতার কারণেই আমাদের জেলায় সংক্রমণের হার বাড়ছে। এই জেলাতে বহু মানুষের চলাচল। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার মানুষের চলাচল এই জেলার ওপর দিয়ে বেশি। বেনাপোল বন্দর থাকায় প্রতিনিয়ত হাজার হাজার পরিবহন চলাচল করে। ভারত থেকে প্রচুর মানুষ যাতায়াতসহ পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে আমরা আগের মতোই কাজ করে যাচ্ছি। তবে, এবার একটু বেশি সতর্ক রয়েছি। হাসপাতালে আমাদের রেড জোন এবং ইয়েলো জোনে বেড রয়েছে; যথাক্রমে ৪৬ ও ৩০। তার বিপরীতে শনিবার (২২ জানুয়ারি) রোগী ভর্তি রয়েছে যথাক্রমে ৭ ও ১৭ জন।

তিনি আরও বলেন, করোনা প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে ইতোমধ্যে আমরা দুটি মিটিং করেছি। হাসপাতালে মূলত আমরা তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছি। সেগুলো হচ্ছে- রোগীদের বেড, ক্রিটিক্যাল রোগীদের আইসিইউ এবং অক্সিজেন ফ্লো। এখন পর্যন্ত আমাদের বেড, অক্সিজেন ও আইসিইউর কোনও সমস্যা নেই। হাসপাতালে ৫২৫টি ছোট অক্সিজেন সিলিন্ডার, ৪১টি বড় সিলিন্ডার এবং ৫ হাজার ৬৪৮ ঘণ লিটার অক্সিজেন প্ল্যান্ট রয়েছে।

ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, আমাদের লোকবলের কিছুটা সমস্যা রয়েছে। আমরা বড় ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে ২০ জন চিকিৎসক, ২০ নার্স, ১৫ কর্মচারী ও ১৫ জন নৈশপ্রহরীর চাহিদা জানিয়ে পত্র দিয়েছি।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং জনসচেনতা বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে হলে জানিয়েছেন যশোরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ শারবীন। তিনি বলেন, আমরা মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি যাদের প্রয়োজন তাদের মাস্ক সরবরাহ করছি। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করেছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ছাত্রনেতা শাহীর মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন যশোর...

খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস আজ ফের চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ রোববার থেকে ফের কলকাতা-খুলনা রুটে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ রেল চলাচল শুরু হবে।...

রসুনের গায়ে আগুন!

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা ক্ষুব্ধ ক্রেতা, স্বস্তিতে নেই কিছু বিক্রেতাও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: এবার ভোক্তার...

আনারসের পাতা থেকে সুতা সৃজনশীল কাজে পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন

অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু হলে কি হবে। সম্ভবনা থাকলেই তো আর আপনা আপনি...

দড়াটানার ভৈরব পাড়ে মাদকসেবীদের নিরাপদ আঁখড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড কুইন্স হাসপাতালের পূর্ব পাশে ভৈরব নদের পাড়ে মাদকসেবীদের...

আজকের মধ্যে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক বন্ধ না হলে ব্যবস্থা

কল্যাণ ডেস্ক: দেশে অনিবন্ধিত ও নবায়নহীন অবস্থায় পরিচালিত অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার...